বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ (Acting President) হিসেবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি শেয়ার করেছেন তিনি। নাটকীয় এই পদক্ষেপে লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি ডিজিটাল ছবি পোস্ট করেন। ছবিটি অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার একটি স্ক্রিনশটের মতো, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ছবিতে তার রাজনৈতিক পরিচিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্যও যুক্ত করা ছিল।
এই বিতর্কিত পোস্টটি এমন এক সময়ে এলো যখন ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তাল।
মাদুরোর বন্দিত্ব: গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন।
অন্তর্বর্তীকালীন শাসন: মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে।
ট্রাম্পের অবস্থান: ট্রাম্প এর আগেই জানিয়েছিলেন যে, একটি সুশৃঙ্খল পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে এবং দেশটির বিশাল তেল সম্পদের ওপর তদারকি বাড়াবে।
ট্রাম্পের নিজেকে ভেনেজুয়েলার নেতা হিসেবে দাবি করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক একে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। যদিও হোয়াইট হাউস থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে ট্রাম্পের এই একটি পোস্ট বিশ্বজুড়ে জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
