ভেনেজুয়েলার প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো তার দেশকে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান মিত্র এবং জ্বালানি সম্পদের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের জনপ্রিয় সঞ্চালক শন হ্যানিটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাচাদো বলেন, ৩ জানুয়ারি তার দেশের ইতিহাসে একটি ‘ঐতিহাসিক দিন’—মার্কিন অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘স্বৈরাচারের পরাজয়’ এবং বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।
মাচাদো বলেন, মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলা লাতিন আমেরিকার অপরাধী চক্রগুলোর কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে এবং মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় মিত্র হিসেবে কাজ করবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দেশের বাজার উন্মুক্ত করা হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি চাহিদার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
একই সঙ্গে মাচাদো লক্ষ করেছেন, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া লাখো নাগরিককে ফিরিয়ে এনে একটি উন্নত ও শক্তিশালী জাতি গঠনের লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, যদি একটি মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তার দল অন্তত ৯০ শতাংশ ভোট পাবে এবং তিনি ‘যত দ্রুত সম্ভব’ দেশে ফেরার জন্য প্রস্তুত।
বর্তমানে অজ্ঞাত স্থান থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করা মাচাদো নবনিযুক্ত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দেলসিকে ‘নিপীড়ন, দুর্নীতি ও মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন দেলসির সঙ্গে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছে এবং নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, মাচাদো তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার মার্কিন এলিট ডেল্টা ফোর্স মাদুরো ও তার স্ত্রীকে কারাকাস থেকে আটক করে নিউইয়র্কের ব্রুকলিন কারাগারে বন্দি করেছে। মাদুরো আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও মাচাদো এই ঘটনার পরিবর্তনকে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে একটি ধাপ হিসেবে দেখছেন।
