ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের জেরে পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলার সময় ভেতরে থাকা মার্কিন মেরিন সেনারা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রবিবার, যখন বিক্ষোভকারীরা করাচি কনস্যুলেটের বাইরের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ওই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কূটনৈতিক স্থাপনায় মার্কিন মেরিন সেনাদের সরাসরি শক্তি প্রয়োগের এই ঘটনাকে অত্যন্ত বিরল ও উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা, যা পাকিস্তানে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেরিন সেনাদের গুলিতে কেউ হতাহত হয়েছে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। এছাড়া কনস্যুলেটের নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্থানীয় পুলিশ বা বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরাও গুলি চালিয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সিন্ধু প্রদেশ সরকারের মুখপাত্র সুখদেব আসারদাস হেমনানি নিশ্চিত করেছেন যে, নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছে। করাচি পুলিশের এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, কনস্যুলেট ভবনের ভেতর থেকেই গুলি ছোড়া হয়েছে।
ইরান ইস্যুতে উত্তাল পাকিস্তানে গত কয়েক দিনের বিক্ষোভে দেশজুড়ে নিহতের সংখ্যা ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। ইরান-পরবর্তী বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া অধ্যুষিত দেশ হওয়ায় পাকিস্তানে এই বিক্ষোভের মাত্রা তীব্রতর হচ্ছে। রবিবার কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভকারীরা ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ ও ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ স্লোগান দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অন্তত একজন বিক্ষোভকারীকে কনস্যুলেটের দিকে অস্ত্র তাক করে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
পেন্টাগন বা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এই ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও শিয়া সম্প্রদায়ের নেতারা লাহোর ও করাচিতে আরও বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করাচি, লাহোর এবং রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করে কঠোর পুলিশি বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে।

