যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা একটি নতুন বিল প্রবর্তন করেছেন, যার উদ্দেশ্য হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ন্যাটো সদস্য কোনো দেশের ভূখণ্ড দখল বা নিয়ন্ত্রণ থেকে বাধা দেওয়া। বিলের লক্ষ্য বিশেষভাবে ডেনমার্কের স্বশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রস্তাবিত ‘ন্যাটো ইউনিটি প্রটেকশন অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং পররাষ্ট্র বিভাগকে কোনো ন্যাটো সদস্য দেশের ভূখণ্ডকে অবরোধ, দখল, একত্রীকরণ বা অন্য কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তহবিল ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এই বিলটি যৌথভাবে উত্থাপন করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহীনের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকোস্কি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনতেই হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ না নেয়, তবে চীন বা রাশিয়া এই অঞ্চলের খনিজ সম্পদ ও ভূখণ্ড দখল করতে পারে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেটর জিন শাহীন এক বিবৃতিতে বলেন, “এই দ্বিদলীয় আইন স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে মার্কিন করদাতাদের অর্থ এমন কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না, যা আমাদের নিজস্ব ন্যাটো প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী।”
গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ রয়েছে। এছাড়া এটি ন্যাটোর উত্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও উত্তর মেরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তাই ট্রাম্পের সম্ভাব্য গ্রিনল্যান্ড দখল কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যা ন্যাটোর ভবিষ্যতকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ট্রাম্প ন্যাটো বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কাকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে না আসলে চীন বা রাশিয়া গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রিপাবলিকান সমালোচক আলাস্কার সিনেটর লিসা মারকোস্কি বলেন, “ন্যাটো হলো বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয়। আমাদের মিত্রদের বিরুদ্ধেই যুক্তরাষ্ট্র তার বিপুল সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহার করতে পারে, এই ধারণাটাই গভীরভাবে উদ্বেগজনক। কংগ্রেসকে আইনের মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।”
গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৫৭ হাজার বাসিন্দার মধ্যে বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করেছেন। ডেনিশ পত্রিকা বার্লিংস্কের এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়, বিপরীতে ৮৫ শতাংশ মানুষ ডেনমার্কের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করে।
উত্তেজনার মধ্যে, বুধবার ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎসফেল্ট ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এছাড়া শুক্রবার ডেনমার্ক সফরে যাবে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস ও রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসসহ যুক্তরাষ্ট্রের একটি দ্বিদলীয় কংগ্রেস প্রতিনিধিদল।
বিলটি প্রবর্তনের মাধ্যমে সিনেটররা ট্রাম্পের সম্ভাব্য গ্রিনল্যান্ড দখল পরিকল্পনাকে কার্যকরভাবে সীমাবদ্ধ করতে চাইছেন এবং নিশ্চিত করতে চাইছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন না হয়।
