বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে সংস্থাটি ছাড়ার সময় ওয়াশিংটন প্রায় ২৬ কোটি মার্কিন ডলার বকেয়া পরিশোধ করেনি। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও জনসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) জানিয়েছে, ডব্লিউএইচওতে সব ধরনের অর্থায়ন বন্ধ করা হয়েছে এবং সংস্থাটির সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন কার্যালয়ে কর্মরত মার্কিন নাগরিকদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে ডব্লিউএইচওর শীর্ষ দাতা দেশ হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র আর সংস্থাটির নীতিনির্ধারণী বা কার্যকরী কোনো ফোরামে অংশ নেবে না।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। তার অভিযোগ ছিল, কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে, কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আনতে পারেনি এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করতে সক্ষম হয়নি।
ডব্লিউএইচওর নিয়ম অনুযায়ী, সদস্যপদ ত্যাগের ক্ষেত্রে এক বছরের আগাম নোটিশ এবং সব আর্থিক বকেয়া পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আইনগতভাবে বকেয়া অর্থ পরিশোধে তারা বাধ্য নয়। ডব্লিউএইচওর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৬ কোটি ডলার।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য আইন কেন্দ্রের পরিচালক লরেন্স গোস্টিন এই প্রস্থানকে ‘অত্যন্ত বিশৃঙ্খল বিচ্ছেদ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর পড়তে পারে। এইচআইভি, পোলিও ও ইবোলার মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২২ ও ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচওতে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছিল।
ইনফেকশাস ডিজিজ সোসাইটি অব আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড নাহাস এই সিদ্ধান্তকে ‘বৈজ্ঞানিকভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, ডব্লিউএইচওর তথ্যভিত্তিক নজরদারি ও ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার বাইরে চলে গেলে ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়তে পারে।
এদিকে ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসন ইউএসএআইডি’র বিভিন্ন মানবিক ও স্বাস্থ্য কর্মসূচিতেও বড় ধরনের কাটছাঁট করেছে। স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের সিদ্ধান্তে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর টিকাদান কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৬০টি দেশের সঙ্গে নিজস্ব রোগ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে, যা ডব্লিউএইচওর প্রস্তাবিত ‘প্যান্ডেমিক এগ্রিমেন্ট’-এর বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ডব্লিউএইচওর ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র আগামী মে মাসে অনুষ্ঠেয় সভায় যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া অর্থ আদায়ের সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে পারে।

