ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমন ও যুদ্ধবিরতি বিষয়ক আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্সকে পাকিস্তানের একটি সরকারি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলকে বহনকারী বিমান শনিবার ইসলামাবাদে অবতরণ করে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। তাদের সঙ্গে রয়েছেন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
এর আগে ভোররাতে ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছে। ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। দলে আরও রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা।
তাসনিমের ইসলামাবাদে অবস্থানরত প্রতিবেদক জানান, ইরানি প্রতিনিধি দল প্রথমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তারা নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেবেন।
জানা গেছে, যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে। বৈঠকটিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনের সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আলোচনার আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ইরান যদি সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার হাত বাড়াতে প্রস্তুত। তবে কোনো ধরনের প্রতারণা বা সময়ক্ষেপণ করা হলে ওয়াশিংটন কঠোর অবস্থান নেবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আলোচক দলকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অক্ষুণ্ণ থাকে এবং কার্যকর ফলাফল নিশ্চিত করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে থাকা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এর আগে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধবিরতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত সংক্রান্ত আলোচনায় যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়।
ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেশটির শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও অর্থনৈতিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা রয়েছেন, যা আলোচনার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক সফল হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে দুই পক্ষের পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি এবং কঠোর অবস্থানের কারণে ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে।

