মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র একটি অভাবনীয় ‘১৫ দফা’ শান্তি পরিকল্পনা সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দাবি, এই প্রস্তাবটি সরাসরি নয়, বরং বন্ধুরাষ্ট্র পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন বা তেহরান— কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ ও ‘আল জাজিরা’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শান্তি পরিকল্পনায় অত্যন্ত কঠোর ও স্পর্শকাতর কিছু শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
ইরানকে তাদের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে হবে। নিজস্ব ভূখণ্ডে সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধের শর্ত দেওয়া হয়েছে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থগিত করতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি ইরানকে সব ধরনের সমর্থন ও সহায়তা বন্ধ করতে হবে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই শর্তগুলো পালনের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ‘বেসামরিক’ পারমাণবিক কর্মসূচিতে কারিগরি সহায়তার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
‘নিউইয়র্ক টাইমস’ ও ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর তথ্যমতে, এই শান্তি আলোচনায় পাকিস্তান প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির (যিনি ২০২৫ সালে এই পদে উন্নীত হন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা গেছে। ইসলামাবাদকে এই সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার ভেন্যু হিসেবেও প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ দাবি করেছে, এই ১৫ দফা নিয়ে আলোচনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির জন্য ওয়াশিংটন অন্তত এক মাসের যুদ্ধবিরতি চাইছে। তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবের ব্যাপারে এখনো তাদের চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করেনি। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পর্দার আড়ালে এই প্রস্তাব নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।

