রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম দফায় দফায় বাড়তে থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। সয়াবিন তেল, চিনি, মসুর ডাল থেকে শুরু করে মুরগি ও সবজি—প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। বিশেষ করে সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সংসার চালানো এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর কাওরান বাজার ও নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক মাসের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৪১০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা মাসখানেক আগেও ৩০০ টাকার আশেপাশে ছিল। দেশি মুরগির দাম আরও চড়া, বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকার কাছাকাছি। খামারিদের মতে, মুরগির খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং রোগের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমে প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে সয়াবিন তেলের বাজারে গত দুই মাস ধরেই অস্থিরতা চলছে। ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদামতো সরবরাহ না পাওয়ায় কোম্পানিগুলো দাম না বাড়ালেও বাজারে খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়েছে। বর্তমানে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম অয়েলের দামও লিটারপ্রতি কয়েক টাকা করে বেড়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদের আগে থেকে শুরু হওয়া সরবরাহ সংকট এখনো কাটেনি।
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাব (CAB) মনে করে, বাজারে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে চাল, ডাল থেকে শুরু করে মুরগি—সবকিছুর দাম বাড়তি থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের হিসাব মেলাতে নাভিশ্বাস উঠছে। দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার না করলে এই ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

