মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান–ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট সংঘাতের প্রভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা।
পর্যটন, বিমান চলাচল, আবাসন ও লজিস্টিকসসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে একযোগে ধস নামায় দেশটির অর্থনৈতিক কাঠামোর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।
গত এক মাসে দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্যে বড় ধরনের পতন হয়েছে, যার পরিমাণ ১২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। একই সময়ে হাজার হাজার উড়ান বাতিল হওয়ায় বিমান পরিবহন খাতও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।
দুবাই শেয়ারবাজারের সূচক এ সময়ের মধ্যে প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউএই-এর বহুমুখী অর্থনীতি—যা দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগনির্ভর ছিল—বর্তমানে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে চাপের মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে আবাসন খাতে লেনদেন ও বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় বাজারে মন্দার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।
পর্যটন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানানো হয়। বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি হোটেল বুকিং ও ভাড়া হ্রাস পেয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দেশটির নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন প্রচারণামূলক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কেবল এসব উদ্যোগে দ্রুত আস্থা ফেরানো কঠিন হবে।
অন্যদিকে, বিমান চলাচল ও বাণিজ্যিক পরিবহন খাতের ব্যাঘাত অর্থনীতির ওপর আরও বড় চাপ সৃষ্টি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

