পারস্য উপসাগর ও এর আশপাশে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাতে রূপ নিয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি শক্তিশালী যুদ্ধবিমান—একটি এফ-১৫ (F-15) এবং একটি এ-১০ (A-10) ভূপাতিত করেছে।
ইরানি সামরিক বাহিনীর ‘খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’-এর মুখপাত্র জানান, তাঁদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করে সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে। বিমানটি ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়।
এ-১০ ভূপাতিত: দিনের শেষভাগে ইরান জানায়, তারা একটি মার্কিন এ-১০ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যা পরবর্তীতে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালির কাছে বিধ্বস্ত হয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ-১০ বিমানের পাইলট নিরাপদ আছেন।
তবে এফ-১৫ বিমানের ক্রুদের নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, একজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ইরান ইতিমধ্যে এফ-১৫ জেটের ধ্বংসাবশেষ এবং একটি ইজেকশন সিটের ছবি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রদর্শন করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনার পর এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই ঘটনা তেহরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি সরাসরি স্বীকার করেন, “না, মোটেও না। এটা যুদ্ধ। আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি।”
অন্যদিকে, ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পকে উপহাস করে লিখেছেন, “টানা ৩৭ বার ইরানকে পরাজিত করার পর, তাঁদের শুরু করা এই ‘কৌশলহীন’ যুদ্ধ এখন শাসন পরিবর্তন থেকে অন্যদিকে ঘুরে গেছে!” তিনি নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্পের সামরিক সাফল্যের দাবিকে বিদ্রূপ করেন।
পেন্টাগন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। তবে এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে ইরানের হামলায় মধ্য ইসরাইলের একটি অংশ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে।

