স্টাফ রিপোটার, আব্দুস সালাম মোল্লা:
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার একদিনের মধ্যে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভাঙ্গা উপজেলার চুমরদী ইউনিয়নের বাবনাতলা গ্রামে একাধিক ধাপের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদী গ্রামে বিএনপির আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে কয়েকশ গ্রামবাসী আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেন। এই বৈঠকে বাবনাতলা গ্রামের ইসরাফিল মোল্লা বক্তব্য দেন, যা দীর্ঘ হওয়ায় প্রতিপক্ষ আনোয়ার মোল্লার দলের শহিদুল মোল্লা প্রতিবাদ করেন। পরে বিএনপির নেতা শহিদুল ইসলাম বাবুল বিষয়টি মীমাংসা করেন।
এর জের ধরে বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুই পক্ষ লাঠিসোটা, ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে আছেন—লাবনী আক্তার (৪৫), ফাতেমা আক্তার (৩৬), জাকারিয়া মোল্লা (৪০), লাভলু মোল্লা (৪৫), জাহিদ মোল্লা (৩৭), ইয়াদালী আলী মোল্লা (৪০), ইসরাফিল মোল্লা (৪৫), আব্দুর রহমান (২০), আনোয়ার মোল্লা (৫০), শাহাবুদ্দিন মোল্লা (৫৫), শহিদুল মোল্লা (৩০), সুমন (২৮) ও রাজন (৩০)।
ভাঙ্গা থানার এসআই আফজাল হোসেন বলেন, “সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মীমাংসার প্রস্তাব দেন এবং পরিস্থিতি শান্ত হয়। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আহত বিএনপি নেতা জাকারিয়া মোল্লা অভিযোগ করেছেন, প্রতিপক্ষ তাদের ওপর হামলা চালিয়ে প্রায় ৮-১০ জনকে আহত করেছে এবং তার পকেটে থাকা ৪ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। অপর পক্ষের আনোয়ার মোল্লা দাবি করেছেন, তাদের দলের শহিদুল মোল্লার ওপর প্রথমে হামলা চালানো হয়।

