সিলেট-৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) আসনে এবার এক অনন্য নির্বাচনী আবহ তৈরি হয়েছে। দেশের একমাত্র আসন হিসেবে এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দুই প্রথিতযশা আলেমের মধ্যে। একদিকে বিএনপির সমর্থনপুষ্ট জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক (খেজুর গাছ), অন্যদিকে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের (জামায়াত-খেলাফত জোট) প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান (দেওয়াল ঘড়ি)।
সিলেটের ১৯টি আসনের মধ্যে এই আসনটি এখন আলোচনার তুঙ্গে। মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক যেমন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ আলেম, মুফতি আবুল হাসানও তেমনি জনপ্রিয় বক্তা ও ওয়ায়েজ হিসেবে সুপরিচিত। কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের ভোটাররা বলছেন, এখানে প্রার্থীর রাজনৈতিক দলের চেয়েও তাঁদের ‘আলেম’ পরিচয়টি ভোটারদের কাছে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ডোর-টু-ডোর প্রচারণায় দুই আলেমই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মজার ব্যাপার হলো, দুই প্রার্থীর কেউই ধনাঢ্য নন। তাঁদের নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশই আসছে স্বজনদের ধার এবং প্রবাসীদের দান থেকে:
মুফতি আবুল হাসান: হলফনামা অনুযায়ী, তিনি নিজের ৩ লাখ টাকা খরচ করবেন। তবে দানের টাকায় তিনি অনেকটা এগিয়ে। প্রবাসী শ্যালক দিয়েছেন ৫ লাখ এবং ৯ জন শুভানুধ্যায়ী দিয়েছেন ১৭ লাখ টাকা (যার মধ্যে ১৩ লাখই দিয়েছেন ৬ জন প্রবাসী)।
মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক: তিনি মোট ১২ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন। এর মধ্যে নিজের আয় মাত্র ২ লাখ টাকা। বাকি ১০ লাখ টাকা তিনি প্রবাসী স্বজনদের কাছ থেকে ধার ও দান হিসেবে পাচ্ছেন।
এই আসনে প্রার্থী নিয়ে জোটের ভেতরে কম নাটক হয়নি। জামায়াতে ইসলামী তাদের হেভিওয়েট প্রার্থী হাফিজ আনোয়ার হোসেন খানকে জেতাতে মরিয়া ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ১০ দলীয় জোটের ঐক্য রক্ষায় জামায়াত পিছু হটে এবং খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসানকে সমর্থন দেয়। অন্যদিকে, বিএনপি তাদের দীর্ঘদিনের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে এই আসনটি ছেড়ে দিয়ে উবায়দুল্লাহ ফারুকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
সিলেট-৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯ হাজার ৯৫৬ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৬৬৭ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৮৯ জন। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মামুনুর রশিদ (ফুটবল) এবং মুসলিম লীগের বিল্লাল উদ্দিন (হারিকেন)। তবে সাধারণ মানুষের ধারণা, মূল লড়াইটা হবে ‘খেজুর গাছ’ বনাম ‘দেওয়াল ঘড়ি’র মধ্যেই।
দুই আলেমের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কানাইঘাট-জকিগঞ্জের মানুষ কাকে বেছে নেবেন, তা দেখতে এখন ১২ ফেব্রুয়ারির অপেক্ষায় পুরো সিলেটবাসী।

