ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে এবার প্রকাশ্যে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলা হবে একটি বড় ভুল, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি এই সংকট নিরসনে সামরিক পথ পরিহার করে কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, ইরান পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপের চিন্তা করা যুক্তিসংগত নয়। বরং সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব।
মার্কিন প্রশাসনের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের মার্কিন বন্ধুদের প্রতি আমার পরামর্শ হচ্ছে—ইরানের সঙ্গে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো একে একে সমাধান করুন। পারমাণবিক ইস্যু দিয়ে শুরু করুন, এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন।”
তিনি আরও বলেন, ইরানের উচিত আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে আস্থা তৈরির দিকে গুরুত্ব দেওয়া। হাকান ফিদানের ভাষায়, “ইরানিদের এই অঞ্চলে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে হবে। আঞ্চলিক দেশগুলো তাদের কীভাবে দেখছে, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। কারণ বাস্তবতা হলো—তারা কোথাও যাচ্ছে না, আমরাও কোথাও যাচ্ছি না।”
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানকে স্পষ্ট করে। আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে তুরস্ক চায় না, নতুন কোনো যুদ্ধ এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলুক।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি পুনরায় উচ্চারণ করেছেন। তার এমন বক্তব্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে।
ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তুরস্কের এই সতর্কবার্তা কূটনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে। সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ ও আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

