যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে তাঁর অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ডেনমার্ক বা দ্বীপটির বাসিন্দাদের পছন্দ-অপছন্দ যা-ই হোক না কেন, ওয়াশিংটন সেখানে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবেই।
গ্রিনল্যান্ডকে লিজ নেওয়ার পরিবর্তে কেন পুরোপুরি মালিকানা নিতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, কোনো অঞ্চলকে সঠিকভাবে সুরক্ষা দিতে হলে তার মালিক হওয়া প্রয়োজন। লিজ নেওয়া জায়গায় কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখল না করে, তবে সেখানে রাশিয়া বা চীন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে, যা আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, তিনি রাশিয়া বা চীনকে প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চান না।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রুশ সংবাদসংস্থা তাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প এই লক্ষ্য অর্জনে ‘সহজ উপায়ে’ সমঝোতা করতে পছন্দ করলেও প্রয়োজনে ‘কঠিন উপায়ে’ বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর আগেও তিনি এক সাক্ষাৎকারে এই দ্বীপটি কবজায় নিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রাম্প সক্রিয়ভাবে সহযোগীদের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৫১ সালের এক প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, অঞ্চলটির সুরক্ষার দায়িত্ব ন্যাটোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আশা প্রকাশ করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ড প্রথমে স্বাধীনতা অর্জন করবে এবং পরে শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হবে। তবে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।
খনিজ সম্পদে ভরপুর এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি নিয়ে ট্রাম্পের এমন আগ্রাসী মনোভাব ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। একদিকে ডেনমার্ক তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বলছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের ‘মালিকানা’ অর্জনের জেদ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে।
রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই ত্রিমুখী প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু এখন গ্রিনল্যান্ড। ট্রাম্পের এই ‘মালিকানা’ মিশন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
