যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজ থেকে ইরানের পক্ষ থেকে ‘ফি’ বা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে তেহরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, এই ধরনের কার্যক্রম ‘এখনই বন্ধ করতে হবে’।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলো থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় করছে। তিনি বলেন, “তারা যেন এটি না করে এবং করে থাকলে তা এখনই বন্ধ করা উচিত।” উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্প শর্ত দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি এই আন্তর্জাতিক জলপথটি জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখে, তবেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান স্থগিত রাখবে। কিন্তু বর্তমানে এই জলপথে চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে দাবি করছে ওয়াশিংটন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরান শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে এ বিষয়ে তেহরান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এই পথকে ঘিরে তৈরি হওয়া যে কোনো উত্তেজনা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।
অন্য এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তাঁর কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, “আমার কারণে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।” তিনি আরও দাবি করেন যে, ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, খুব শিগগিরই বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে। ট্রাম্পের এমন অনমনীয় অবস্থানে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কতটুকু স্থায়ী হবে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

