ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং চলমান সামরিক অভিযানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আজ জাতির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা) তিনি এই ভাষণ দেবেন।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জাতির সামনে তুলে ধরবেন। যদিও ভাষণের মূল বিষয়বস্তু এখনো গোপন রাখা হয়েছে, তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি যুদ্ধের সমাপ্তি বা কোনো সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত হতে পারে।
এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এক বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে তাদের সামরিক অভিযান শেষ করার পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্প বলেন:
“আমরা কাজটি শেষ করার পথে। সম্ভবত দুই সপ্তাহের মধ্যে সব শেষ হবে, তবে পুরোপুরি গুছিয়ে নিতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা—বিশেষ করে তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি ধ্বংস করা। তিনি উল্লেখ করেন যে ইরানকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হবে যেখান থেকে তারা আর কোনো হুমকি হতে পারবে না। তবে তিনি একটি সমঝোতা চুক্তির দরজাও খোলা রেখেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়:
“ইরান চুক্তিতে আসুক বা না আসুক, আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করে তবেই ফিরব। তারা চুক্তি করতে বাধ্য নয়, তবে আমরা চাইলে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই এই সংঘাতের ইতি টানতে পারি।”
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ট্রাম্পের আজকের ভাষণ থেকে বিশ্বনেতারা এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের দিকনির্দেশনা আশা করছেন।

