ইরানের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটন এখন ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং প্রয়োজনে সেখানে মার্কিন স্থল বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অত্যন্ত সরাসরি ভাষায় তাঁর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু বক্তব্য হলো:
ট্রাম্প বলেন, “সত্যি বলতে, আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ হলো ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।” এই পদক্ষেপের বিরোধিতাকারীদের তিনি ‘বোকা’ বলে অভিহিত করেন।
ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপটি দিয়ে পরিচালিত হয়। ট্রাম্পের মতে, সেখানে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করতে হতে পারে।
দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন যে, ইরানের সেখানে কার্যকর কোনো সুরক্ষা নেই এবং মার্কিন বাহিনী খুব সহজেই এর নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে।
ট্রাম্প এই কৌশলকে চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় চালানো মার্কিন অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। উল্লেখ্য যে:
গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আকস্মিক সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসে।
মাদুরোকে অপসারণের পর থেকেই ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার তেল খনিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প এখন সেই একই ‘তেল দখল’ নীতি ইরানে প্রয়োগ করতে চাইছেন।
সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খারগ দ্বীপ দখল করা সম্ভব হলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি পঙ্গু হয়ে পড়বে। তবে এই ধরনের পদক্ষেপের ফলে:
১. আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।
২. মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুরোপুরি নষ্ট হতে পারে।
৩. সুরক্ষিত এই দ্বীপে স্থল অভিযান চালানো মার্কিন বাহিনীর জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের কারণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে ইরানকে চুক্তিতে আসার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, অন্যথায় জ্বালানি অবকাঠামোতে আরও বড় হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

