ইরানের সাথে চলমান সংঘাত কোন পথে শেষ হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ব্রিটিশ সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-নীতি বর্তমানে ফ্লোরিডার অস্থির আবহাওয়ার মতোই অনিশ্চিত। চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করা এই যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে ট্রাম্পের সামনে এখন চারটি প্রধান বিকল্প রয়েছে, যার প্রতিটিই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রথম বিকল্প হিসেবে আলোচনার কথা বলা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা প্রায় অসম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মিলিশিয়া সমর্থন বন্ধ হোক। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন ঘাঁটি সরানোর দাবিতে অনড়। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অবস্থানে কূটনীতির পথ আপাতত রুদ্ধ।
ট্রাম্পের উপদেষ্টারা দাবি করছেন, ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানাগুলো ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই যুক্তিতে ট্রাম্প একতরফা ‘বিজয় ঘোষণা’ করে যুদ্ধ শেষ করতে পারেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখে এবং ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে এই বিজয় ঘোষণা বিশ্ববাসীর কাছে অর্থহীন প্রমাণিত হবে।
তৃতীয় পথটি হলো বর্তমান কায়দায় বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়া। ওয়াশিংটনের কট্টরপন্থীদের ধারণা, এতে তেহরান সরকারের পতন ঘটতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের শঙ্কা, ইরান ভেঙে না পড়ে বরং দীর্ঘমেয়াদী গেরিলা কায়দায় জাহাজে হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালী অচল করে রাখতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধস নামাবে।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিকল্পটি হলো ইরানকে স্বীকারে বাধ্য করতে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও খাড়গ দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো। তবে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এমনটা হলে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে পাল্টা হামলা চালাবে। গত ১৮ মার্চ কাতারের এলএনজি প্লান্টে হামলার ফলে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও সম্মানজনকভাবে এটি শেষ করাই এখন ট্রাম্পের জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। খাড়গ দ্বীপ বা ইরানের মূল ভূখণ্ডে বড় কোনো হামলা পুরো অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে।

