১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ ছিল আধুনিক ইতিহাসের এক বর্বরোচিত ও পরিকল্পিত গণহত্যা। বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে সশস্ত্র হায়েনারা সেদিন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র মানুষের ওপর।
মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ও মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী এই অভিযানের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। ২০১২ সালে প্রকাশিত খাদিম হোসেন রাজার আত্মজীবনী ‘এ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্রি’ থেকে জানা যায়, ১৭ মার্চ জেনারেল টিক্কা খান তাঁদের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। ১৮ মার্চ সকালে তাঁরা এই অভিযানের নাম দেন ‘অপারেশন সার্চলাইট’।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ছিল সেই রাতের সবচেয়ে বড় হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী। ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা এবং ড. মনিরুজ্জামানসহ ৯ জন প্রথিতযশা শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। রেহাই পায়নি রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও।
পিলখানা ইপিআর সদর দফতর, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস এবং নীলক্ষেত এলাকায় ট্যাংক ও মর্টার নিয়ে আক্রমণ চালায় হানাদাররা। মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইনের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই এক রাতেই কেবল ঢাকায় প্রায় ৭ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়।
খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত শ্বেতপত্রেই স্বীকার করা হয়েছে যে, ১৯৭১ সালের ১ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। অপারেশন সার্চলাইট শুরু হওয়ার পরপরই পাকিস্তানি বাহিনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেফতার হওয়ার আগেই (২৫ মার্চ মধ্যরাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে) বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিরোধের ডাক দেন।
দিবসটি স্মরণে সারাদেশে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করা হয়।
বাদ জোহর দেশের সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির-গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আলোচনা সভা ছাড়াও সারাদেশে গীতিনাট্য ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে গণহত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে।

