পাপ, মৃত্যু ও অন্ধকারের বিরুদ্ধে জয়ের প্রতীক হিসেবে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ আজ রোববার সারাদেশে পালিত হচ্ছে। খ্রিষ্টীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার তৃতীয় দিনে এই রোববারে যিশু খ্রিষ্ট পুনরুত্থিত হয়েছিলেন, যা খ্রিষ্টধর্মের মূল ভিত্তি ও নতুন জীবনের আশা জাগানিয়া বার্তা বহন করে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি গির্জায় আজ সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। তেজগাঁও ক্যাথলিক চার্চ ও রমনা সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রালসহ বিভিন্ন গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা সভা বা ‘ইস্টার লিটার্জি’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা গির্জায় সমবেত হন এবং দেশ, জাতি ও বিশ্ব মানবতার মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
ইস্টার সানডের অন্যতম আকর্ষণ হলো শিশুদের রঙিন ‘ইস্টার এগ’ বা ডিম উপহার দেওয়া, যা নতুন প্রাণের প্রতীকি প্রকাশ। গির্জাগুলোতে প্রার্থনার পাশাপাশি ঘরে ঘরে বিশেষ ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন সবাই।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণীতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা যিশু খ্রিষ্টের ত্যাগ ও মানবপ্রেমের শিক্ষা অনুসরণ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার আহ্বান জানান।
দীর্ঘ ৪০ দিনের উপবাস, প্রার্থনা ও ত্যাগের সময় ‘লেন্ট’ পালনের পর এই ইস্টার সানডে খ্রিষ্টানদের জীবনে অপার আনন্দ ও ক্ষমার বার্তা নিয়ে আসে। যিশুর এই অলৌকিক পুনরুত্থান অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় হিসেবেই যুগে যুগে পালিত হয়ে আসছে।

