নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট:
কয়েক বছর ধরেই স্বর্ণের বাজারে চলছে ব্যাপক দোলাচল। গত পাঁচ বছরে দাম প্রায় তিন গুণ বেড়ে যাওয়ায় কেউ স্বর্ণ কেনায় পিছিয়ে যাচ্ছেন, আবার অনেকেই এটিকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। সম্প্রতি দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
প্রায় প্রতিদিনই স্বর্ণের দাম নিয়ে খবর প্রকাশ হচ্ছে। তবে কোথাও দাম বলা হচ্ছে ভরিতে, কোথাও গ্রামে, আবার আন্তর্জাতিক বাজারে ট্রয় আউন্সে। একক বদলানোর কারণে স্বর্ণের প্রকৃত দাম বোঝা অনেকের জন্য বিভ্রান্তিকর হয়ে পড়েছে। এই বিভ্রান্তি কাটাতে প্রয়োজন ওজনের এককগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা।
ট্রয় আউন্স কী?
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রূপার মতো মূল্যবান ধাতুর দাম নির্ধারণে ব্যবহার করা হয় ট্রয় আউন্স। এটি সাধারণ আউন্সের মতো নয়। যেখানে সাধারণ এক আউন্সের ওজন ২৮.৩৫ গ্রাম, সেখানে এক ট্রয় আউন্সের ওজন ৩১.১০ গ্রাম। এ পার্থক্যের কারণে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের দামের হিসাব মিলাতে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি হয়।
ভরি কেন এখনো প্রচলিত?
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় স্বর্ণের সবচেয়ে পরিচিত একক হলো ভরি। বিয়ের গয়না বা পারিবারিক সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে যুগের পর যুগ ধরে এই একক ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হিসাব অনুযায়ী, এক ভরি সমান ১১.৬৬ গ্রাম, আবার প্রায় ২.৪৩ ভরি মিলে হয় এক ট্রয় আউন্স।
ভরির পাশাপাশি রতি ও আনা ব্যবহারও এখনো দেখা যায়। আট রতিতে এক আনা এবং ১৬ আনায় এক ভরি ধরা হয়। এই এককগুলোর ব্যবহার ব্রিটিশ আমলেরও আগে শুরু হয়েছিল, যখন আন্তর্জাতিক দশমিক পদ্ধতি প্রচলিত ছিল না।
স্বর্ণের বাজার বুঝতে চাইলে শুধু দামের অঙ্ক দেখলেই হবে না, ওজনের এককগুলোর সম্পর্ক জানাও জরুরি। ভরি, গ্রাম ও ট্রয় আউন্সের হিসাব পরিষ্কার থাকলে স্বর্ণের দামের ওঠানামা বোঝা অনেক সহজ হয়।

