দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গাজীপুর এলাকার একটি সুপারি বাগানে অভিযান চালিয়ে ৬টি ঘোড়া জবাইয়ের প্রমাণ পায় প্রশাসন। এ সময় প্রায় ১২ মণ মাংস জব্দ করা হয়, যা পরে জনসাধারণের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়—একটি চক্র ঘোড়া জবাই করে তা গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন নেত্রকোনার আব্দুল্লাহ, নীলফামারীর রুবেল হোসেন এবং রংপুরের রবিউল ইসলাম। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গরুর মাংসের নামে যদি ঘোড়ার মাংস বিক্রি হয়, তাহলে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা কোথায়?”
আরেক বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, “এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।”
স্থানীয় যুবক সোহেল রানা বলেন, “এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার, না হলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হতে থাকবে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তারা বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি এলাকায় খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

