পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর থেকে জনতা বাজারে যাতায়াতের একমাত্র সংযোগ সড়কটি যেন আজ আতঙ্কের আরেক নাম। আলোকী নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৪শ ফুট দীর্ঘ গোয়ালিয়াবাগা আয়রন ব্রিজটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ব্রিজ পার হচ্ছেন—কেউ কাজে, কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কেউ বা চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে কালিশুরী বাজার এলাকা থেকে ব্রিজটি খুলে এনে জনতা বাজারসংলগ্ন এলাকায় পুনঃস্থাপন করা হয়। কিন্তু স্থাপনের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো ধরনের টেকসই সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লোহার কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় লোহার পাত উঠে গেছে, কোথাও মরিচা ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছে পুরো ফ্রেম। ঝুঁকি সামাল দিতে স্থানীয়ভাবে কাঠ দিয়ে অস্থায়ী জোড়াতালি দেওয়া হলেও তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এই ব্রিজ দিয়েই প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। অভিভাবকদের মধ্যে তাই কাজ করে অদৃশ্য আতঙ্ক—আজ না কাল কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায় কি না। শুধু শিক্ষার্থীই নয়, নদীর দুই পাশে তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্রিজটিতে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে।
মোটরসাইকেল, ভ্যান, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্রিজের ওপরই যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই নদী পার হন বিকল্প অনিরাপদ পথে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বারবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তাদের প্রশ্ন—“বড় কোনো দুর্ঘটনার পরই কি কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে?”
গোয়ালিয়াবাগা আয়রন ব্রিজটি আজ কেবল একটি যোগাযোগ অবকাঠামো নয়; এটি বাউফলের মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক অবহেলিত বাস্তবতা। দ্রুত টেকসই সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ না নিলে যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এ আশঙ্কা এখন স্থানীয়দের নিত্যসঙ্গী।

