দিনাজপুর প্রতিনিধি:
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন। যারা সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ১৯৭২ সালের সংবিধানকে অস্বীকার করতে চায়, তারা মূলত একাত্তরের পরাজিত শক্তি।
আজ শনিবার (০৪ এপ্রিল) দুপুরে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয় আয়োজিত এতিমখানা ও আশ্রমে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট-এর চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব বলেন।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “যারা ৭২-এর সংবিধানকে ছুড়ে ফেলতে চায়, তারা সেই সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী ছিল। তাই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস তাদের কাছে অস্বস্তিকর।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি যেমন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে স্মরণ করে, তেমনি ১৯৭৫, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের আত্মত্যাগকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। স্বৈরাচারবিরোধী ১৭ বছরের আন্দোলনে দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, বিএনপি সেটিকেও গুরুত্ব দেয়। সে কারণেই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি নিয়মতান্ত্রিকভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকারে এসে দলটি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পিছু হটেননি; বরং অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনের পর ব্যারাকে ফিরে গিয়েছিলেন। একইভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, কোনো আপস করেননি।
তিনি আরও বলেন, “অনেকে আপস করেছে, ইতিহাসে অনেক বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনাও আছে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে কারা তৎকালীন স্বৈরশাসককে বৈধতা দেওয়ার জন্য নির্বাচনে গিয়েছিল, সেটি দেশের মানুষ জানে। তবে আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের নাম নিতে চাই না।
জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জাতীয় সনদকে একটি জাতীয় দলিল হিসেবে দেখে এবং সেটিকে সম্মান করে।
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতেও যা বলা হয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। তবে বিএনপি নিয়ম-নীতির ভিত্তিতে এগোতে চায়। রাষ্ট্র পরিচালনা আবেগ দিয়ে হয় না; রাষ্ট্র পরিচালনা হয় নিয়ম, নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে।
জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আসিফ ফেরদৌস প্রমুখ।

