বিশ্বের ক্ষমতাধর রাজনীতিক, বিলিয়নিয়ার আর রাজপরিবারের সদস্যদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে একটি নামই যথেষ্ট—জেফরি এপস্টেইন। ২০১৯ সালে কারাগারে রহস্যময় মৃত্যুর সাত বছর পর, আবারও কেঁপে উঠেছে বিশ্ব। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশ করেছে এপস্টেইন সম্পর্কিত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার গোপন ফাইল, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি আর দুই হাজার ভিডিও। ক্ষমতা আর বিকৃত লালসার সেই অন্ধকার সাম্রাজ্যের পর্দা আজ জনসমক্ষে। কারা আছেন এই তালিকায়? আর কী আছে এই ভয়ংকর ফাইলগুলোতে?
এই নথির সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ হলো ২০০৭ সালের সেই অপ্রকাশিত অভিযোগপত্র। যেখানে দেখা যায়, এপস্টেইন ও তাঁর সহযোগীরা মিলে বছরের পর বছর নাবালিকা মেয়েদের ওপর চালিয়েছেন অমানুষিক যৌন নির্যাতন। ১৯ জন ভুক্তভোগীর নাম উঠে এসেছে এখানে, যাদের অনেকের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত বছর পর কেন এই নথিগুলো প্রকাশ্যে আনা হলো?
ফাঁস হওয়া ইমেইলে নাম এসেছে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। যদিও এপস্টেইন এক সময় ট্রাম্পকে ‘বুদ্ধিহীন’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন, তবুও ৯০-এর দশকে তাঁদের সখ্যের ছবিগুলো নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। শুধু ট্রাম্প নন, প্রযুক্তি বিশ্বের সম্রাট বিল গেটস এবং ইলন মাস্কের নামও এই ফাইলে পাওয়া গেছে। বিল গেটসের সঙ্গে এপস্টেইনের অনৈতিক সম্পর্কের ইঙ্গিত থেকে শুরু করে ইলন মাস্কের ‘বন্য পার্টি’ নিয়ে আগ্রহ—সবই এখন ওপেন সিক্রেট। এমনকি ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রুও ফেঁসে গেছেন এই নথিতে। ২০১০ সালে এক রাশিয়ান তরুণীর সঙ্গে ডিনার করার জন্য তাঁর আগ্রহের প্রমাণ এখন সবার হাতে।
এই নথির ঢেউ আছড়ে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়াতেও। ২০১৭ সালের একটি ইমেইলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন এপস্টেইন। যেখানে মোদীর ইসরায়েল সফর নিয়ে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য ভারতে রাজনৈতিক ঝড় তুলেছে। অন্যদিকে, বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ারের নামও এই নথিতে পাওয়ায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তোলপাড়।
জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে জেলখানায় আত্মহত্যা করেছিলেন—নাকি প্রভাবশালীরা তথ্য ধামাচাপা দিতে তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিলেন? সেই বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। তবে ৩ মিলিয়ন পৃষ্ঠার এই নথির প্রতিটি পাতা আজ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, ক্ষমতা আর অর্থের জোরে আইনের ঊর্ধ্বে থাকা মানুষগুলো কতটা নোংরা হতে পারে। স্লোভাকিয়ার মতো দেশে ইতোমধ্যে পদত্যাগ শুরু হয়েছে। এবার দেখার বিষয়, এই তথ্যের বিস্ফোরণে আর কত রথী-মহারথীর পতন হয়।

