দেশে দুই মাসের জ্বালানি মজুত, সংকট নেই, সরকারের আশ্বাস। প্রতি মাসে আড়াই–তিন হাজার কোটি টাকা মূল্য সহায়তা।
দেশে বর্তমানে পেট্রোল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আগামী দুই মাস জ্বালানি সরবরাহে কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ডিজেল মজুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার টন, অকটেন প্রায় ৯ হাজার ৫৬৯ টন এবং পেট্রোল প্রায় ১৬ হাজার ৮১২ টন। নিয়মিত আমদানি ও সরবরাহ অব্যাহত থাকায় অন্তত আগামী দুই মাস অকটেন ও পেট্রোলের কোনো ঘাটতি হবে না।
জ্বালানি মূল্য পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও প্রকৃত বাজারমূল্য প্রায় ১৫৫ টাকা। ফলে সরকারকে প্রতি লিটারে প্রায় ৫৫ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা মাসে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে সরকারকে এই মূল্য সহায়তা দিতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি উন্নতি হলে জ্বালানির দাম পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে, আরেকটি জাহাজ ১৮ এপ্রিল রওনা হবে। পাশাপাশি তৃতীয় একটি চালানের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
অবৈধ জ্বালানি মজুদ ও বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে সারা দেশে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। এ পর্যন্ত হাজার হাজার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং লাখ টাকারও বেশি জরিমানা আদায়সহ বেশ কয়েকজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সংকট নিয়ে জনমনে আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মুখপাত্র বলেন, দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং নিয়মিত আমদানি অব্যাহত আছে।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক করতে ঢাকার কিছু পাম্পে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল কার্ড’ ও ‘ফুয়েল পাস’ চালু করা হয়েছে, যা ধীরে ধীরে সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুদ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রয়েছে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

