সাইফুল ইসলাম , বাউফল প্রতিনিধি :
“তেল নাই, নদীতে যামু কেমনে? ঘরে বসে থাকি, পেট তো আর বসে থাকে না,”—কথাগুলো বলতে বলতে তার চোখে ভেসে ওঠে অসহায়ত্ব।
শুধু মিতা মাঝি নন—বাউফল, কলাপাড়া, গলাচিপা, রাঙ্গাবালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার জেলের একই অবস্থা। ইঞ্জিনচালিত নৌকা আর ট্রলারগুলো ঘাটেই পড়ে আছে। ডিজেলের অভাবে নদীতে যাওয়া বন্ধ, ফলে থেমে গেছে তাদের একমাত্র আয়ের পথ।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই সংকট চললেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আগে কষ্ট করে দূরের পাম্প থেকে জ্বালানি জোগাড় করা গেলেও এখন সেই পথও বন্ধ। পাম্পগুলোতেও মিলছে না ডিজেল।
এ অবস্থায় জেলেরা বাধ্য হয়ে বিকল্প খুঁজছেন। কেউ দিনমজুর হিসেবে মাঠে কাজ করছেন, কেউ গবাদিপশু চরাচ্ছেন। কিন্তু এসব কাজ তাদের পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
সবচেয়ে বড় চাপ এসেছে ঋণের বোঝা থেকে। অনেক জেলে এনজিও কিংবা মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে নৌকা, জালসহ মাছ ধরার সরঞ্জাম কিনেছেন। এখন আয় বন্ধ থাকায় কিস্তি পরিশোধ করা তো দূরের কথা, সংসার চালানোই হয়ে পড়েছে দুঃসাধ্য।
সালমা বেগম (৪৯) এক জেলের স্ত্রী, বলেন—
“বাচ্চার স্কুলের ফি দিতে পারতেছি না। ঘরে চাল নাই, কীভাবে চলবো বুঝতেছি না।”
এই সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়—এটি মানবিক সংকটও। নদী নির্ভর একটি জনগোষ্ঠী আজ জীবিকার অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে। তাদের কষ্টের কোনো দৃশ্যমান সমাধান না থাকায় দিন দিন বাড়ছে হতাশা।

