ঈদকে সামনে রেখে যেখানে পল্লীজুড়ে ব্যস্ততার ছবি থাকার কথা, সেখানে ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী বেনারসি পল্লীতে অপ্রত্যাশিত নির্জনতা দেখা দিয়েছে। শতবর্ষের এই তাঁত শিল্প বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কম খরচে ভারতীয় স্বয়ংক্রিয় মেশিনে তৈরি শাড়ি বাজার দখল করায় দেশীয় কারিগরদের হাতে বোনা বেনারসির চাহিদা কমে গেছে।
পাবনার ঈশ্বরদীর বেনারসি পল্লীর ইতিহাস ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো। ব্রিটিশ আমলে ভারত থেকে আসা কারিগররা এখানে বসতি স্থাপন করে দক্ষ হাতে বেনারসি ও কাতান শাড়ি বুনতে শুরু করেন। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ফতেমোহাম্মদপুর এলাকায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেনারসি পল্লী প্রতিষ্ঠা করে। ৯০ জন তাঁতিকে ৯০টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে মাত্র কয়েকটি কারখানা কার্যক্রম চালাচ্ছে।
একসময় খটখট শব্দে মুখর এই এলাকা এখন অল্প কয়েকটি কারখানার কর্মকাণ্ড নিয়েই টিকে আছে। তাঁত মালিকরা জানান, আগে এখানে প্রায় এক হাজার তাঁত ছিল, বর্তমানে তা কমে ৪০–৫০টির মধ্যে সীমাবদ্ধ। সরকারি সহায়তা, সহজ কিস্তির সুবিধা ও বাজার সুরক্ষা ছাড়া শিল্পটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
কারিগর ও ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এমন চললে কয়েক বছরের মধ্যে শত বছরের এই ঐতিহ্যবাহী বেনারসি শিল্প পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। ব্যবসায়ী মো. জাবেদ খান বলেন, “ভারতীয় শাড়ির দাপটে আমাদের উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় কারিগর ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।” শাড়ি ব্যবসায়ী ওয়াকিল খান যোগ করেন, “হাতে তৈরি শাড়ি তৈরি করতে সময় ও খরচ বেশি লাগে, তাই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন।”
তাঁতশিল্প টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্টরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাজার সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

