দুই বছর আগেই ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরা এবং ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের নিখুঁত পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বেইজিংয়ের অধ্যাপক জুয়েকিন জিয়াং। সারা বিশ্ব এখন তাঁকে ডাকছে ‘চীনের নস্ত্রাদামুস’ নামে। তাঁর তিনটি বড় ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে ইতোমধ্যে দুটি হুবহু মিলে গেছে। কিন্তু তৃতীয়টি কী? যা শুনলে শিউরে উঠবে খোদ হোয়াইট হাউস!
২০২৪ সালের মে মাস। যখন বিশ্ব রাজনীতি ছিল স্থিতিশীল, তখনই অধ্যাপক জিয়াং দাবি করেছিলেন—ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরবেন। শুধু তাই নয়, ভূ-রাজনৈতিক চাপে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্মুখসমরে নামতে বাধ্য হবেন। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই দুটি কথাই ধ্রুব সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রণক্ষেত্র এখন জিয়াংয়ের সেই অনলাইন বক্তৃতাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দিয়েছে।
ইয়েল কলেজ থেকে স্নাতক করা এই অধ্যাপক ব্যবহার করেন ‘প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি’ বা ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ইতিহাস। তিনি মনে করেন, ইতিহাস একটি নির্দিষ্ট চক্র মেনে চলে। জিয়াংয়ের মতে, এই যুদ্ধ কেবল সামরিক সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এতে জড়িয়ে পড়বে পুরো মধ্যপ্রাচ্য, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারকে ধ্বংস করে দেবে।
জিয়াংয়ের প্রথম দুটি তির লক্ষ্যে লেগেছে। এখন অপেক্ষা সেই তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাসের। জিয়াং দুই বছর আগেই জানিয়ে রেখেছেন—এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শোচনীয় পরাজয় ঘটবে এবং একটি রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যাবে! তিনি দাবি করেছেন, ইরান গত ২০ বছর ধরে এই সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরান যখন টালমাটাল, তখন জিয়াং বলছেন ইরান এখন অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় আছে। এখন দেখার বিষয়, জিয়াংয়ের সেই ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রকে এক ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে? ইতিহাস কি তার চক্র পূরণ করবে?

