নবীজি মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের কয়েক মাস আগে ইয়েমেনের শাসক বাদশাহ আবরাহা বিশাল বাহিনী নিয়ে মক্কায় অগ্রসর হন। তার উদ্দেশ্য ছিল কাবাঘর ধ্বংস করা। প্রায় ৬০ হাজার সৈন্যের সঙ্গে ছিল একাধিক বৃহদাকার হাতি। এই বাহিনীকে ইতিহাসে বলা হয় আসহাবে ফিল বা হস্তীবাহিনী।
কাবার সামনে আসার পর হাতিগুলো আর অগ্রসর হলো না। সৈন্যরা লাঠি ও নিষ্ঠুর প্রহার করেও তাদের কাবার দিকে নিতে পারল না। বরং হাতিগুলো মক্কার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে ইয়েমেনের দিকে চলতে থাকে।
এ সময় আসমান থেকে কালো মেঘের মতো ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি এসে উপস্থিত হলো। প্রতিটি পাখির চঞ্চু ও পায়ে ছিল ছোট ছোট নুড়িপাথর। সেই পাথর সৈন্যদের ওপর নিক্ষেপ করতে শুরু করলে মুহূর্তেই সেনাদল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। আঘাত এত শক্তিশালী ছিল যে পাথর শরীর ভেদ করে বের হয়ে যাচ্ছিল, সঙ্গে সঙ্গেই সৈন্যরা যন্ত্রণায় মারা যাচ্ছিল।
অনেক সৈন্য আহত অবস্থায় ইয়েমেনের দিকে পালিয়ে যায়। কিন্তু পাথরের আঘাতে সৃষ্ট ক্ষত দ্রুত সংক্রমিত হয়ে দগদগে ঘা তৈরি হয়। ধীরে ধীরে তাদের শরীরের অঙ্গ ঝরে পড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত সবাই মৃত্যু বরণ করে।
আবরাহার অবস্থাও ছিল ভয়াবহ। আঘাতে ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে সে ইয়েমেনের সানআয় ফিরতে থাকে। কিন্তু পথে পথে মাংস খসে পড়তে থাকে। অবশেষে নিজ দেশে পৌঁছেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
বিভিন্ন বর্ণনায় বলা হয়, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আরব উপকূলে প্রথমবারের মতো মহামারি প্লেগ দেখা দেয়। তবে সেনাদের দু-একজন বিকলাঙ্গ অবস্থায় কিছুদিন বেঁচে ছিল। হজরত আয়েশা (রা.) ও তার বোন আসমা (রা.) জানান, তারা নিজেদের চোখে আবরাহার বাহিনীর দু’জন সৈন্যকে ভিক্ষা করতে দেখেছিলেন। তাদের একজন ছিলেন হাতির চালক উনাইস।
