আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার উপজেলার জাঙ্গাল গ্রামে একটি সেতু ভারতীয় পাহাড়ি ঢলও আশে পাশে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে গত দুই বছর আগে ভেঙে গেছে। এরপর থেকে যেন দুর্ভোগ নেমে আসে ওই এলাকার কয়েক গ্রামের মানুষের।
সেতুর ওপারে রয়েছে কবরস্থান আর ঈদগাহ মাঠ। কেউ মারা গেলে লাশ নিতে হয় নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো বেয়ে। জমির ধান কেটে সাঁকো বেয়ে আসাটাও কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। কোমলমতি শিশুরা বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ওই এইগুরুত্বপূর্ণ সেতুটি নির্মাণের কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় স্থানীয় লোকজনের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের জাঙ্গাল গ্রামের ভেতর দিয়ে দক্ষিণ দিকে একটি পাকা সড়ক শান্তিপুর-মান্দাইল গ্রামকে যুক্ত করেছে। জাঙ্গাল গ্রামের শেষ প্রান্তে খালের উপর রয়েছে এ সেতুটি। ২০২৪ সালের শেষ দিকে ভারতীয় পাহাড়ি ঢল ও আশে পাশে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে সেতুটির অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙ্গে পড়ে। এরপর নতুন করে আর সেতু নির্মাণ করা হয়নি। এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে সেতুর পাশে বাঁশ দিয়ে সাকো তৈরি করে চলাচল করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাঙ্গাল গ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিমপ্রান্তে সেতুটি ভেঙ্গে পানিতে পড়ে আছে। একপাশে সেতুর পিলার দেখা যায়। অন্যপ্রান্তে সেটির দেখা নেই। সেতুর একটি অংশ পানির নিচে ডুবে আছে। সেতু ভেঙ্গে যাওয়ায় পর এখানে একটি সাঁকো নির্মাণ করা হয়।
এদিকে গত দুই দিন আগে টানমান্দাল এলাকায় এক লোক মারা যাওয়ায় তাকে কবরস্থানে নিয়ে যেতে সেতু ভাঙ্গা থাকায় ঝুঁকি নিয়ে সাকো দিয়ে স্বজনদের যেতে হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ক সৃষ্টি হয়। হৃদয় বিদারক এদৃশ্যটি মানুষের বিবেককে নাড়িয়ে দেয়।
মো. শাহ আলম নামে এক কৃষক বলেন, এই সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের কষ্টের শেষ নেই। কোন মানুষ মারা গেলে কবরস্থানে যেতে খুবই কষ্ট হয়। তিনি আরো বলেন এলাকার মানুষের বেশিরভাগ জমি সেতুর ওইপারে। ধান কেটে বাড়ি আনতে কষ্টের যেন শেষ নেই। এছাড়া কয়েকটি গ্রামের মানুষ এ পথ দিয়ে নিয়মিত চলাচল করে। কিন্তু সেতু নির্মাণের জন্য এখনো কেউ এগিয়ে আসেনি।
সাবেক ইউপি সদস্য মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘২০০২ বা ২০০৩ সালের দিকে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। দুই বছরেরও বেশি সময় হলো এটি ভেঙ্গে পড়ে আছে। এতে এলাকার মানুষের কষ্টের কোনো শেষ নেই। বিশেষ করে ওপারের কবরস্থানে লাশ নিতে আমাদেরকে খুব কষ্ট করতে হয়। বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহনের দাবি জানাচ্ছি।
ইউপি সদস্য মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘সেতু ভাঙ্গার পর আমি বিষয়টি তৎকালীন ইউএনওকে জানিয়েছি। ওনি এসে দেখে গেছেন। এরপর আর কোনো ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখন সরকার দলীয় সিনিয়র নেতাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করছি স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহন করা হবে।
আখাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, প্রকল্পের সংশোধনী পাশ না হওয়ায় সেতুটি করা হয়নি। সেতু দিয়ে লাশ নেওয়ার ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া বলেন, ভাঙা সেতুটি দেখেছি। আমি অবাক হয়েছি যে এত দিনেও কেন এটি নির্মাণ নিয়ে কেউ কথা বলেনি বা উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’‘এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখব। পাশাপাশি মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায়ও বিষয়টি উত্থাপন করবো। সেতুটি যেন দ্রুত নির্মাণ করা যায় সে বিষয়ে সব ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

