সাইফুল ইসলাম, বাউফল প্রতিনিধি:
বর্ষার টানা বৃষ্টিতে যখন মাঠ ডুবে যায়, চারপাশে সবুজ ঘাসের অভাব দেখা দেয়, তখন গ্রামের কৃষকের ভরসা হয়ে দাঁড়ায় ‘কুড়ের পালা’। ধান কাটার পর জমিতে পড়ে থাকা নাড়া সংগ্রহ করে যে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়, সেটিই কুড়—গরুর জন্য অমূল্য সঞ্চয়। গ্রামবাংলায় এটি শুধু পশুখাদ্য নয়, বরং টিকে থাকার এক নীরব কৌশল।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের কৃষক ইউনুচ হাওলাদার সেই গল্পের এক জীবন্ত নাম। শীতের সকালে কুয়াশা ভেজা মাঠে পা ভিজিয়ে, রোদে পুড়ে তিনি টানা ১৫ দিন ধরে নাড়া সংগ্রহ করেছেন কুড় বানাতে। ক্লান্ত শরীরেও তাঁর চোখে ছিল নিশ্চয়তার আলো—এই কুড়ই বর্ষায় তার চারটি গরুর জীবন বাঁচাবে। প্রায় ১০ হাজার টাকা মূল্যের এই কুড় ছয় মাসের খাদ্য জোগাবে।
গ্রামের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কৃষকই এইভাবে কুড় সংরক্ষণ করেন। উঠানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কুড়ের পালাগুলো শুধু সৌন্দর্য নয়—এগুলো কৃষকের পরিশ্রম, দূরদর্শিতা আর পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রতীক। কুড়ের স্তূপের ভেতর লুকিয়ে থাকে গ্রামীণ জীবনের নীরব সংগ্রাম আর আশা।

