১৯৯১ সালের সেই দিনগুলো মনে করুন—দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ঠিক চালু হয়েছে। রাজনীতির ময়দানে ছোট ছোট ইসলামপন্থী দলগুলোকে কেউ বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি। জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্যরা ভোটের মাত্র খণ্ডাংশই পেত। কেউ কেউ হেরে গিয়ে মঞ্চ থেকে নামতে বাধ্য হতো, আবার কেউ নিরবেই থাকতে হতো।
কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচন যেন সেই ধোঁয়াশার রাত ভেঙে দিয়ে নতুন ভোরের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বে নির্বাচনী জোটে অংশ নিয়ে ইসলামপন্থী দলগুলো এবারের নির্বাচনে পুরোদমে মাঠে নেমেছে। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, দু’দলই নিজেদের প্রার্থীর সংখ্যা শিগগিরই আকাশে তুলে দিয়েছে। ভোটের লড়াই এতটা তীব্র, যে ২৯৯টি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল দুই হাজারের বেশি প্রার্থী।
ফলাফল চমকপ্রদ। ইসলামপন্থী দলগুলো জিতেছে ৭২টি আসন। জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি। চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো একটি আসনে জয়লাভ করেছে। যারা আগে কখনো জেতেনি, তারা এবার রাজনৈতিক মঞ্চে নিজেদের পরিচয় জানান দিয়েছে। অনেকেই বলছে, এটি যেন দীর্ঘদিনের নিস্তব্ধতার পরে একটি হঠাৎ বিস্ফোরণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উত্থান স্থায়ী নাও হতে পারে। কারণ বেশিরভাগ ইসলামপন্থী দলই তাদের মৌলিক এজেন্ডা প্রকাশ্যে আনে নি। তারা ইসলামী পরিচয়কে আড়াল করে, ভোটের লড়াইয়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছে স্থানীয় চাহিদা ও জোটের কৌশলে। তবু এবারের ফলাফল একটি বার্তা দিয়েছে—ইসলামপন্থীরা এবার শুধুই মঞ্চে নয়, তারা নির্বাচনী রাজনীতির বড় অংশ হয়ে উঠেছে।
পেছনের ইতিহাস দেখলেও বোঝা যায়—১৯৯১ ও ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া কেউ বড় কিছু জিততে পারত না। ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে তাদের সাফল্য প্রায় শূন্যের কোঠায়। চরমোনাই পীরের দলও বারবার চেষ্টা করলেও জয় পায়নি। আর এইবার, ২০২৬ সালে, সেই ইতিহাসকে পেছনে ফেলে তারা ভোটের মাঠে নিজের স্থান করে নিয়েছে।
রাজনৈতিক ময়দান বলছে, এবারকার এই বিজয় একটি নতুন অধ্যায় লিখেছে। যদিও কেউ কেউ মনে করেন, এটি কেবলমাত্র একটি ফ্ল্যাশ—একটি অস্থায়ী উত্থান। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় লেখা যাবে, এইবার ইসলামপন্থী দলগুলোই ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রধান রাজনীতির অংশীদার। আর রাজনৈতিক খেলায় তাদের প্রভাব আগামী দিনে কতটা শক্তিশালী হবে, তা সময়ই বলবে।

