মোঃ তাইজুল ইসলাম, শরণখোলা বাগেরহাট প্রতিনিধি:
থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে উপকূলীয় উপজেলা শরণখোলার মানুষ ঈদের দিন ভোর থেকেই কিছুটা ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। অনেকটা বাধ্য হয়েই বৃষ্টিতে ভিজে ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে হয় তাদের। সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের পর অধিকাংশ মানুষ ঘরেই সময় কাটান।
তবে দুপুরের পর আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করলে ধীরে ধীরে বাইরে বের হন স্থানীয়রা। বিকেল গড়াতেই প্রাণ ফিরে পায় ঈদের আমেজ। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে উপজেলা সদরের বলেশ্বর নদীর তীরে গড়ে ওঠা রিভারভিউ পার্কে নামে হাজারো মানুষের ঢল। অল্প সময়েই নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে এলাকা পরিণত হয় এক প্রাণচঞ্চল মিলনমেলায়।
নানা শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ, বিশেষ করে শহর থেকে ঈদ করতে গ্রামে ফেরা মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ঝড়-জলচ্ছাস প্রতিরোধে নির্মিত এই বাঁধকে ঘিরেই গড়ে ওঠা স্থানটি এখন দর্শনার্থীদের কাছে একটি জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রে রূপ নিয়েছে।
তবে ঈদকে কেন্দ্র করে এখানে তেমন কোনো বিশেষ আয়োজন লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকি ময়লা-আবর্জনা ও আগাছা পরিষ্কারের দিকেও ছিল অবহেলা। তারপরও বিনোদনের অভাবে ঈদের বিকেলে বলেশ্বর রিভারভিউ পার্কে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।
অনেকে ট্রলার ভাড়া করে বলেশ্বর নদীতে ঘুরে বেড়িয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটান কিছুটা স্বস্তির সময়। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে একসময় নির্জন থাকা নদীর তীর।
তাফালবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আব্দুল মালেক রেজা বলেন, বিনোদনপ্রেমী মানুষের ভিড়ে এখন সরগরম বলেশ্বর নদীর পাড়। তেমন কোনো আয়োজন না থাকায় অনেকে আশপাশ থেকে বাদাম, ফুচকা কিনে সময় কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ নির্ধারিত ভাড়ায় ট্রলার নিয়ে নদীতে ঘুরছেন। তবে ঈদ উপলক্ষে এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ন্যূনতম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা। ময়লা-আবর্জনা ও আগাছা অপসারণে যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় অসন্তোষ জানিয়েছেন তারা। দর্শনার্থীদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে স্থানটি আরও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

