দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাইয়ে রুই জাতীয় মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে হ্রদে ছোট আকারের মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের সবচেয়ে বড় এই হ্রদ শুধু পর্যটনের জন্যই নয়, বরং মিঠা পানির মাছের বিশাল ভাণ্ডার হিসেবেও পরিচিত। হ্রদের মাছের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে হাজারো জেলে পরিবার। প্রতিদিন সন্ধ্যায় হ্রদে নৌকা নিয়ে নামেন জেলেরা এবং রাতভর জাল ফেলে ভোরে মাছ ধরে ফিরেন। রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হয়।
তবে জেলেরা বলছেন, বড় মাছ এখন আগের মতো ধরা পড়ছে না। ছোট মাছ বেশি ধরা পড়ায় প্রত্যাশিত লাভ অনেক সময় কমে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন হ্রদের মাছ আহরণ ও বিপণন তদারকি করছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে হ্রদ থেকে প্রায় ৮,২০০ মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হয় এবং রাজস্ব আসে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মাছ আহরণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৫০০ মেট্রিক টনে এবং রাজস্ব আয় হয়েছে ১৯ কোটি টাকা।
মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত পোনা অবমুক্ত করা এবং নির্দিষ্ট সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখায় উৎপাদন বাড়ছে, যার ফলে রাজস্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হ্রদের পরিবেশ রক্ষা, অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ এবং নিয়ম মেনে মাছ আহরণ নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে বড় মাছের সংখ্যা আবার বৃদ্ধি পেতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে কর্ণফুলীর ওপর বাঁধ দিয়ে গড়ে তোলা হয় কাপ্তাই হ্রদ, যা ৭০০ বর্গমাইল এলাকায় বিস্তৃত। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন ১৯৬৪ সাল থেকে এখানে বাণিজ্যিক মাছ আহরণ শুরু করে, এবং বর্তমানে প্রায় ২০,০০০ জেলে হ্রদের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

