নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট :
সুস্থ থাকার জন্য এক বা একাধিক বীজ—চিয়া, ফ্ল্যাক্স, কুমড়া ও সূর্যমুখীর বীজ—খাবার যে কোনো একটি নির্দিষ্ট বীজকেই সেরা বলা কঠিন; বরং বিভিন্ন বীজগুলোর সমন্বয় বা ‘মিক্সড সিড’ নিয়েই আজকের ফিটনেস ট্রেন্ডের প্রাধান্য। সকালে চিয়া ভেজানো পানি, ব্রেকফাস্টে ফ্ল্যাক্স সিড, দুপুর‑বিকালে কুমড়া ও সূর্যমুখীর বীজ মিশিয়ে স্ন্যাক্স—এভাবে প্রতিদিন বিভিন্ন বীজের সেরা পুষ্টিগুণ নেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই দাঁড়িয়েছে নতুন নিয়মে।
এই বীজগুলো ফাইবার, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখলেও, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন—সব বীজে শরীরের উপকার হতেই পারে, তবে তা ব্যক্তির শারীরিক প্রয়োজন ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্বাচন করা উচিত।
পুষ্টিবিদ ইন্দ্রানী ঘোষ জানিয়েছেন, “বীজ দেখতে ছোট হলেও পুষ্টির ভিত্তিতে এগুলো পावर‑হাউস; কিন্তু কোন বীজ আপনার শরীরের জন্য সুবিধাজনক বা অপ্রযোজ্য হবে, তা বুঝে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিনা পরামর্শে এবং অযথা বড় পরিমাণে বীজ খাওয়ার ফলে শরীরে কিছু অসুবিধা কিংবা অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকতে পারে।
চিয়া সিডস ওমেগা‑৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎস হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে ঘন ঘন খিদে লেগে থাকলে চিয়া সিড সাহায্য করতে পারে। আবার কুমড়ার বীজ ম্যাগনেশিয়াম, জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ হওয়ায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও পেশির শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে বলে পুষ্টিবিদরা মনে করেন।
ফ্ল্যাক্স সিডস হার্ট এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর; আর সূর্যমুখীর বীজ ভিটামিন‑ই ও অ্যান্টি‑অক্সিডেন্ট হিসেবে ত্বকের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
আরও বলা হয়েছে, বীজ খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার শরীরের চাহিদা বা সীমাবদ্ধতা যাচাই করা উচিত এবং ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।


