সাইফুল ইসলাম, বাউফল:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলতাফ হোসেনের ছেলে জহিরুল ইসলাম (৩১) লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসার অভাবে ধীরে ধীরে তার জীবন নিভে যেতে বসেছে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন এবং বাবা মৃত্যুর পর পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন।
২০২৫ সালের শুরুতে হঠাৎ জ¦র, তীব্র পেটব্যথা, আমাশা ও শারীরিক দুর্বলতায় ভেঙে পড়েন জহিরুল। স্থানীয় চিকিৎসক এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক পিজি) ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাসের কাছে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজে প্রায় দুই মাস চিকিৎসা নিলেও অবস্থা আরও খারাপ হয়। চিকিৎসকরা তাকে ভারতের হায়দরাবাদের একটি ক্যান্সার হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন, কিন্তু ভিসা জটিলতায় সেই পথও বন্ধ হয়ে যায়। শেষ আশায় গত ২৬ আগস্ট তিনি চীনের ফুদা ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, যেখানে এক মাসের চিকিৎসার খরচ হয়েছিল প্রায় ৩২ লাখ টাকা। এই বিপুল অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে পরিবারকে তাদের একমাত্র বসতভিটা বিক্রি করতে হয়।
আজ জহিরুল অসুস্থ শরীর ও ভাঙা স্বপ্ন নিয়ে বোনজামাই মনজুরুল আলমের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আরও তিনটি কেমোথেরাপি, নিয়মিত ওষুধ এবং পুনরায় চীনে চিকিৎসা নিলে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু অর্থের অভাবে কেমোথেরাপি বা দৈনন্দিন ওষুধও কিনতে পারছেন না। প্রতিদিনের ওষুধের খরচ প্রায় ৩,২০০ টাকা।
জহিরুলের মা মমিন নেচ্ছা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “চোখের সামনে আমার ছেলেটা ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছে। আমি কিছুই করতে পারছি না। সরকার বা কোনো হৃদয়বান মানুষ যদি পাশে দাঁড়ান, হয়তো আমার সন্তান আবার বাঁচার সুযোগ পাবে।”
মানবিক সহানুভূতির অপেক্ষায় থাকা এই যুবকের জন্য সাহায্য পাঠাতে আগ্রহীরা নিম্নলিখিত মাধ্যমে অনুদান পাঠাতে পারেন:
-
সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, পান্থপথ শাখা, ঢাকা
হিসাব নম্বর: ০০৫০১২০০১২৯০৪
হিসাব নাম: জহিরুল ইসলাম -
বিকাশ / নগদ: ০১৮৫৫৭৭৮৯৬৮
একটি জীবন বাঁচাতে আজ জহিরুলের চোখ দুটি তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে।

