সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন বা ‘সংস্কার’ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে ভিন্নমত পোষণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। রোববার জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, “সংবিধান কখনো ‘সংস্কার’ হয় না; এটি মূলত রহিত, স্থগিত অথবা সংশোধন করা হয়।” এই প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে তিনি সকল দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চব্বিশের জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা ও অভিপ্রায়, তাকে সরকার পূর্ণ সম্মান জানায়। তিনি ঘোষণা করেন, “জুলাই জাতীয় সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্রের মূল নির্যাসকে আমরা সংবিধানে ধারণ করার অঙ্গীকার করেছি। এটি সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।” তবে তিনি স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার সঙ্গে অন্য কোনো কিছুর তুলনা চলে না।
সাবেক সরকারের আমলে পাস হওয়া পঞ্চদশ সংশোধনীর তীব্র সমালোচনা করে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, এর মাধ্যমে সংবিধানে অনেক ‘লেজিসলেটিভ ফ্রড’ বা আইনি প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, হাইকোর্ট ইতোমধ্যে এর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বাকি অংশগুলো এই সার্বভৌম সংসদই আলোচনার মাধ্যমে বাতিল বা সংশোধন করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানের ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে যে ‘ভুল ইতিহাস’ ও ‘তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা’ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা বিলুপ্ত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সেই ক্ষমতা প্রয়োগের কেন্দ্রবিন্দু হলো এই সংসদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বর্তমান সরকার সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের চেয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় সংশোধনের পথেই হাঁটতে চাইছে। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে আইনি রূপ দেওয়া এবং বিগত দিনের বিতর্কিত সংশোধনীগুলো বাতিলের ওপরই জোর দিচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

