ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ঐতিহাসিক গণভোটে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকাল ১০টায় রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে তিনি ভোট প্রদান করেন।
ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দেশবাসীকে উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান এবং এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রে উত্তরণের এক নতুন সূর্যালোক হিসেবে অভিহিত করেন।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে চলছে এবং চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
সারাদেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ৪২,৯৫৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে।
ভোটাররা আজ সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালট এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটের জন্য গোলাপী ব্যালট—এই দুটি আলাদা ব্যালট পেপারে ভোট দিচ্ছেন।
কেন এই নির্বাচন ঐতিহাসিক?
দীর্ঘ ১৮ বছর পর দেশের মানুষ কোনো প্রকার ভয়-ভীতিহীন পরিবেশে নিজের পছন্দের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ২. গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার: শুধু সংসদ সদস্য নির্বাচনই নয়, রাষ্ট্রীয় কাঠামো কেমন হবে—তা ঠিক করতে জনগণ সরাসরি গণভোটে অংশ নিচ্ছেন। ৩. বিশাল নিরাপত্তা বলয়: সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে ৯ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে কাজ করছেন।
সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ভোটারদের দীর্ঘ সারির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের (জেন-জি) ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য উপদেষ্টারাও বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের ভোট প্রদান করছেন।
ড. ইউনূসের এই ভোট প্রদান কেবল একটি ব্যক্তিগত সাংবিধানিক অধিকার নয়, বরং এটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক শক্তিশালী প্রতীকী মুহূর্ত।

