বাংলাদেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী দিন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেন। আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ও স্বজনহারা পরিবারগুলো, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই রায়ের অপেক্ষায় ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করেছিল—সাড়ে ১৫ বছরের ক্ষমতাশাসনের প্রধান শেখ হাসিনা ছিলেন এই অপরাধগুলোর ‘মাস্টারমাইন্ড’ এবং ‘সুপিরিয়র কমান্ডার’। দেড় হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা ও আহত করার মধ্যে তিনটি অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত করেছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ছিল—হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যা করার নির্দেশ। আদালতে দাখিল করা অডিও টেপে হাসিনার নিজস্ব কণ্ঠে ‘মারণাস্ত্র ব্যবহারের’ নির্দেশ শুনা গেছে।
তিনটি প্রমাণিত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদকে হত্যা প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র, পুরান ঢাকার চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যা ও একজনকে জীবিত পুড়িয়ে দেওয়া।
মোট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি রায়ের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আইনের ২০ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘ শাসনের পতন ঘটেছিল। আজকের রায় কেবল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা নয়, এটি একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা—জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা হবে, তা সে যতই ক্ষমতাশালী হোক না কেন।

