ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলমান সংকটে এ পর্যন্ত চারজন প্রবাসী বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংঘাতের শিকার হয়ে আরও অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দুবাইয়ে নিহত প্রবাসী আহমেদ আলীর মরদেহ আজ সোমবার (৯ মার্চ) সকালে দেশে পৌঁছেছে।
সোমবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের পর এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত বাহরাইনে একজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একজন এবং সৌদি আরবে দুজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে টাঙ্গাইলের বাচ্চু মিয়া এবং কিশোরগঞ্জের এক বাসিন্দা রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো তাঁদের চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
আজ সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের (ইকে–৫৮২) ফ্লাইটে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা আহমেদ আলীর (সালেহ আহমেদ) মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে মরদেহটি সিলেটে তাঁর গ্রামের বাড়িতে দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সৌদি আরবে নিহত বাকি দুজনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া ফ্লাইট বন্ধ হওয়ায় আটকে পড়া যাত্রীদের আবাসন ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে।
সংঘাতপূর্ণ এবং আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এমন এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশের নিরাপত্তা সাইরেন ও জরুরি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
প্রবাসীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনবিরোধী কোনো কনটেন্ট প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এই সংঘাতের অবসান ঘটবে এবং আর কোনো প্রাণহানি হবে না।

