রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হবে সংবিধান সংস্কার বিষয়ক এক বিশেষ গণভোট। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
৩০০টি (শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত হওয়ায় ২৯৯ আসনে ভোট হচ্ছে)। মোট ভোটার: ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী: ২,০২৮ জন (৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র)।
জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’ বা সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে-বিপক্ষে রায় দেবেন ভোটাররা।
নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
পুলিশ, আনসার, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের প্রায় ৯ লাখ সদস্য মাঠ পর্যায়ে মোতায়েন রয়েছেন। প্রথমবারের মতো আকাশপথে নজরদারিতে থাকছে ৫০০-এর বেশি ড্রোন। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের পোশাকে থাকছে বডিওর্ন ক্যামেরা।
প্রায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে, যা সরাসরি নির্বাচন কমিশন থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিগত ১৫ বছরের মধ্যে এটিই প্রথম কোনো নির্বাচন যেখানে প্রধান দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। এর পাশাপাশি নতুন দল জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি) এবং তরুণ প্রজন্মের প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন গতকাল জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে দেশবাসীকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। যেকোনো মূল্যে জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা হবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল কেবল নতুন সরকারই নির্ধারণ করবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক শক্তির প্রভাবের ক্ষেত্রেও নতুন বার্তা দেবে।

