সমাপ্তী খান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষকদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ, অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী এবং অধ্যাপক মোছাঃ নুরজাহান খাতুন। বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষককে নৃশংসভাবে হত্যা করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং পুরো শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর হুমকি। তাই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তারা আরও বলেন, দেশের শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষকরা।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে আসমা সাদিয়া রুনার নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেন আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসাপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ইবি থানায় প্রধান আসামি ফজলুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছেন ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা।

