রোজা রেখে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। চলতি বছরের ছুটির তালিকায় শুক্র ও শনিবার গণনায় অসংগতি এবং রমজান মাসে পর্যাপ্ত ছুটি না রাখায় শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মো. আবুল কাসেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, খায়রুন নাহার লিপি ও মু. মাহবুবর রহমান।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রওশন আরা পলির স্বাক্ষরযুক্ত একটি বাৎসরিক ছুটির তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ তালিকার দাপ্তরিক অনুমোদন ও সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে।
সংগঠনের দাবি, তালিকাটি কার্যকর হলে সেখানে একাধিক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। অতীতে শুক্র ও শনিবারকে ছুটির তালিকায় ‘শূন্য দিন’ হিসেবে গণনা করা হলেও চলতি তালিকার কয়েকটি অংশে ভিন্নতা দেখা গেছে। উদাহরণ হিসেবে ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ঘোষিত ছুটির মধ্যে দুটি শুক্রবার ও দুটি শনিবারকে ছুটির দিন হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে ডিসেম্বরের শেষ ভাগের ছুটিতেও শুক্র ও শনিবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে মোট ছয় দিন অতিরিক্তভাবে ছুটির হিসাবের মধ্যে চলে এসেছে বলে দাবি করা হয়।
এই ধরনের অসংগতি শিক্ষক সমাজ ও সচেতন অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় এবং বিষয়টি দ্রুত সংশোধনের দাবি জানানো হয়।
এদিকে রমজান মাসে রোজা রেখে পাঠদান শিক্ষকদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। একই সঙ্গে অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থীও সিয়াম পালন করে বিদ্যালয়ে আসে, যা তাদের শারীরিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষক নারী হওয়ায় বিদ্যালয় শেষে পারিবারিক দায়িত্ব ও ইফতার প্রস্তুতির বিষয়টিও একটি বাড়তি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনার দাবি জানানো হয়।
সবকিছু মিলিয়ে ধর্মীয় অনুভূতি ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ।

