শপথ নেওয়ার পরের প্রথম কর্মদিবস। ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি ঢাকার আকাশে। রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে বেরিয়ে এলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিন্তু দৃশ্যটা ছিল সবার প্রত্যাশার চেয়ে আলাদা—দীর্ঘ গাড়িবহর নয়, সাইরেনের শব্দ নয়; তিনি উঠলেন নিজের সাদা টয়োটা গাড়িতে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী পরে সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে জানান, প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ির বদলে নিজের গাড়িতেই চলাফেরা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বুধবারের পুরো কর্মসূচিই তিনি সম্পন্ন করেছেন নিজের গাড়িতে চড়ে। সকালে তিনি প্রথমে যান জাতীয় স্মৃতিসৌধ, সাভার-এ। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নীরব প্রাঙ্গণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মুহূর্তে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সেখান থেকে যাত্রা শেরেবাংলা নগর। সেখানে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আবারও নিজের গাড়িতেই রওনা হন সচিবালয়ের উদ্দেশে।
শিবলী জানান, যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁর গাড়িবহরের সংখ্যা ১৩-১৪টি থেকে কমিয়ে চারটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। শপথের পর প্রথম দিন তিনি পতাকাবিহীন গাড়ি ব্যবহার করেছেন। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা বিদেশি অতিথিদের সফরের সময় গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি—মন্ত্রিসভার বৈঠক এখন থেকে বেশিরভাগ সময় সচিবালয়ে হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হলে সচিবালয় থেকে মন্ত্রীদের যাতায়াতে ভিআইপি চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। সেই ভোগান্তি কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। এমনকি রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে সড়কের দুই পাশে পোশাকধারী পুলিশের অবস্থানের প্রচলিত নিয়মও বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
দিনের শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সাদা টয়োটা গাড়িটি যেন সেদিন শুধু একটি বাহন ছিল না—ছিল একটি বার্তা। ক্ষমতার আড়ম্বর কমিয়ে, জনদুর্ভোগ হ্রাস করে, সাধারণের কাছাকাছি থাকার এক প্রতীকী সূচনা।

