দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের পার্বতীপুর-এ ট্যাংকলরি শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে রংপুর বিভাগের আট জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। ফলে উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
শ্রমিকদের এ কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়েছে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিও। এতে দিনাজপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শ্রমিক ইউনিয়নের সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার যমুনা অয়েল কোম্পানির একটি ট্যাংকলরি নীলফামারীর উদ্দেশে যাওয়ার পথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে থেমে গেলে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযানে লরি ম্যানেজার একরামুল হক, চালক শ্রীকৃষ্ণ ও সহকারী রিফাতকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এই ঘটনাকে “হয়রানিমূলক” দাবি করে শ্রমিকরা ডিপোর সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। আন্দোলনের ফলে কোনো ট্যাংকলরি ডিপো থেকে বের হতে পারেনি।
রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, শ্রমিকরা চুরির সঙ্গে জড়িত নন, যান্ত্রিক ত্রুটির সময় গাড়ি মেরামত করছিলেন। তিনি আটক শ্রমিকদের মুক্তি না দিলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দেন।
শ্রমিক নেতা হাসান আলী জানান, নিঃশর্ত মুক্তি ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।
এ বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ায় সমাধান সম্ভব হলেও শ্রমিকরা এখনো সে পথে যেতে রাজি হননি। প্রশাসন দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

