সাজ্জাদ হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বেসরকারি ফলাফলে জয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭ভোট।মন্ত্রীসভায় যুক্ত হচ্ছেন টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনের এমপি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।
আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ থেকে তাকে টেলিফোনের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র।
টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী, জেলা বিএনপির বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল হরিণ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৪০৮ ভোট। ফলে আহসান হাবিব মাসুদের তুলনায় ৫০ হাজার ৯৯৬ ভোট এবং ফরহাদ ইকবালের তুলনায় ৬১ হাজার ৮৭১ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন। তাদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৯২ হাজার ৪৮১ জন। বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৪০১ ভোট। ফলে বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০।
এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খন্দকার জাকির হোসেন (হাতপাখা) পেয়েছেন ২ হাজার ৬০০ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. মোজাম্মেল হক (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১ হাজার ৬৩৬ ভোট। এছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেসের এ কে এম শফিকুল ইসলাম (ডাব) পেয়েছেন ১০৯ ভোট, গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তার বীথি (মাথাল) ২২১ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের মো. শফিকুল ইসলাম (ট্রাক) ২৬৩ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. হাসরত খান ভাসানী (একতারা) ১ হাজার ১৮৯ ভোট এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সৈয়দ খালেকুজ্জামান মোস্তফা (তারা) পেয়েছেন ১ হাজার ৯২ ভোট।
উল্লেখ্য, এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে প্রায় ৩৫০টি মামলার মুখোমুখি হতে হয় এবং ১২ দফা কারাভোগ করেন। এ সময় তিনি মোট প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন এবং টানা ৪৬ দিন রিমান্ডেও থাকতে হয়েছে তাকে।

