সাজ্জাদ হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:
মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২,২১,০২৯ জন। দুই নির্বাচনের তুলনা করলে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আবারো আসনটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। এই পরিবর্তন ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব, স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও জাতীয় প্রবাহের পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।
টাঙ্গাইল–২ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির আব্দুস সালাম পিন্টু ধানের শীষ প্রতীকে ১,০৫,৭২৭ ভোট পেয়ে বিজয় অর্জন করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের খন্দকার আসাদুজ্জামান, যিনি নৌকা প্রতীকে ১,০২,১৯৯ ভোট লাভ করেন। ফলে অতি সামান্য ভোট ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হয়ে আসনটি ধরে রাখতে সক্ষম হন।
এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৮৫,০২১, যা ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রতিফলন। এরপর ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরিস্থিতি আবারও পরিবর্তিত হয়। এবার আওয়ামী লীগের খন্দকার আসাদুজ্জামান নৌকা প্রতীকে ১,৪৪,৩১০ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন এবং বিএনপির প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ১,০৩,৫০৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। এ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ২,৮৩,৩২২ জন, যার মধ্যে ব্যালটের হিসাব অনুযায়ী বৈধ ভোট ২,৫১,৮৫৪, অবৈধ ভোট ১,৯০৮ এবং মোট ৬২৪ জন ভোটার ভোট প্রদান করেননি।
এই দুই নির্বাচনের তুলনামূলক ফলাফল প্রমাণ করে যে টাঙ্গাইল–২ আসনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবসময়ই তীব্র এবং ভোটারদের সিদ্ধান্ত প্রায় প্রতিবারই পরিবর্তনশীল। কখনো বিএনপি আবার কখনো আওয়ামী লীগ—জনগণের আস্থার ওপর ভিত্তি করে দু’দলই এ আসনে পালাক্রমে বিজয় লাভ করেছে।

