ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া ইশতেহারকে ‘অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী’ বলে মন্তব্য করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংস্থাটির মতে, ইশতেহারগুলোতে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অর্থনৈতিক বাস্তবতা, অর্থায়নের উৎস ও বাস্তবায়ন কৌশল যথেষ্ট স্পষ্ট নয়।
সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত কোন দলের কেমন ইশতেহার? শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও সিপিবির ইশতেহার বিশ্লেষণ করা হয়।
সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিএনপির ইশতেহারে ঘোষিত এক কোটি কর্মসংস্থান, ২০৩৫ সালের মধ্যে অর্থনীতি এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা, চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অর্থায়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই। কৃষক কার্ডের আওতায় ভর্তুকির পরিমাণও অস্পষ্ট। ধনীদের করের আওতায় আনার পরিকল্পনা বিত্তশালীদের প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করা হয়।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবার আগে সুশাসন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে মনে করছে সুজন। জামায়াত প্রস্তাবিত ১৯ শতাংশ আয়কর ও ১০ শতাংশ ভ্যাট বিনিয়োগবান্ধব হলেও রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ও সামাজিক ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
এনসিপির ইশতেহারকে তুলনামূলকভাবে ভবিষ্যৎমুখী উল্লেখ করে বলা হয়, দলটি উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি, যুব কর্মসংস্থান, স্টার্টআপ ও ডিজিটাল শিল্পকে গুরুত্ব দিয়েছে, যা দেশের জনসংখ্যাগত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সিপিবি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কর্মসংস্থানকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে দেখছে। তবে সিপিবি সমাজতান্ত্রিক পুনর্বণ্টন কাঠামোর ওপর জোর দিচ্ছে, আর ইসলামী আন্দোলন কল্যাণরাষ্ট্রের ধারণাকে ধর্মীয় নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত করেছে।
সুজনের বিশ্লেষণে বলা হয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও আয়বৈষম্য বর্তমানে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ হলেও দলগুলোর ইশতেহারে এসব সমস্যার টেকসই সমাধানের সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই। একইভাবে পররাষ্ট্রনীতিতে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা বলা হলেও কৌশলগত দিকনির্দেশ দুর্বল।
সংস্থাটি আরও বলেছে, সব দলের ইশতেহারের বড় দুর্বলতা হলো—কোন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কত অর্থ প্রয়োজন এবং সেই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তার স্পষ্ট হিসাব না থাকা। ফলে নাগরিকদের মধ্যে ইশতেহারের বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সুজনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। সঞ্চালনা করেন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। এ সময় সুজনের সদস্য ইকরাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

