সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ঘুঘুমারি গ্রামের একটি বাড়ি তখন আনন্দের মাতায় ভরে উঠেছিল। বাড়িতে মেয়ের গায়েহলুদের অনুষ্ঠান। আত্মীয়-স্বজন ঘরে ঢুকতে শুরু করেছিলেন, রান্নাবান্না চলছিল, পাত্রপাত্রী সাজাচ্ছিলেন অতিথি আপ্যায়নের জন্য। বাড়িটি যেন উৎসবের আনন্দে আলোকিত।
দীপিকা সানা, স্থানীয় কৃষক দেবাশীষ সানার স্ত্রী, দুপুরের দিকে গোয়ালঘরে গরুর দুধ দোহাতে গেলেন। গোয়ালঘরে বৈদ্যুতিক লাইনে হয়তো ক্রুটি ছিল। হঠাৎ সেই লাইনের সংস্পর্শে এসে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলেন। পরিবার বুঝতে পেরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে দেখতে পেলেন, দীপিকা মারা গেছেন।
পরিবার ও গ্রামের সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল। স্থানীয় সমাজকর্মী কৃষ্ণ ব্যানার্জী বললেন, “বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছিল। এমন দুর্ঘটনা পুরো গ্রামকে শোকের ছায়ায় ঢেকে দিয়েছে।”
দীপিকা ও দেবাশীষের তিন সন্তান—অভীক, অর্পিতা ও অর্ণব (৯)—সহ পুরো পরিবার শোকাহত। বিশেষ করে দ্বিতীয় সন্তান অর্পিতার বিয়ের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছিল, আর মঙ্গলবারই ছিল গায়েহলুদের অনুষ্ঠান। বুধবারের বিয়ের কথা মাথায় রেখে আনন্দের ঘর সাজানো হলেও হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা সব আনন্দ মুছে দেয়।
খাজরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ খান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাড়িটি এখন শান্ত, কিন্তু আনন্দ আর উৎসবের বদলে সেখানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছোট সন্তান অর্ণব থেকে বড়রা, সবাই মিস করছে দীপিকার উপস্থিতি। গ্রামের মানুষও এই ট্র্যাজেডি ভুলতে পারবে না—একটি পরিবার, একসাথে আনন্দ ভাগাভাগি করার ঠিক আগ মুহূর্তে জীবনকে হারালো।

